বাংলাদেশের স্টার্টআপে জাপানি বিনিয়োগ আহ্বান আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর
দেশের উদীয়মান উদ্যোক্তা সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা এবং এর ফলে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যাপক উন্নতির কথা তুলে ধরে এ খাতে বিনিয়োগে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ২৫০০ এর বেশি সক্রিয় উদ্যোক্তা রয়েছেন। এছাড়াও প্রতিবছর ২০০টি নতুন উদ্যোগ যুক্ত হচ্ছে এই ইকো সিস্টেমে। এরমধ্যে চমৎকার কিছু স্টার্টআপ রয়েছে। তরুণরাই এ খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই তাদের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে জাপানের বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসতে পারেন। কেননা, স্বাধীনতার পর থেকে গত কয়েক দশক ধরেই জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘বাংলাদেশে স্টার্টআপে বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, এরইমধ্যে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসের সাপোর্ট সেন্টারের কার্যক্রম উদ্যোক্তাদের জন্য আশা জাগানিয়া। আমি জেনে আনন্দিত হয়েছি, বাংলাদেশে ও জাপান দূতাবাস যৌথ অংশীদারিত্বে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন কিছু উদ্যোগে অংশও নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে। কেননা, এরই মধ্যে জাপান-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য সরকারি পর্যায়ে ৮টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১১টি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয়ী আইসিটি খাতকে সমৃদ্ধ করতে সাইবার সুরক্ষাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে বেসিস ও জিসা।

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেট্রো) সহযোগিতায় টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইউনিডো আইটিপিও টোকিও লিমিটেড যৌথেভাবে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ও জাপানের ২০০ জন অংশ নেন।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। এর পরেই ‘বাংলাদেশে স্টার্টআপে বিনিয়োগের সুযোগ’ বিষয়ে তথ্য-পরিসংসংখ্যান ভিত্তিক একটি উপস্থাপনা পেশ করেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সামি আহমেদ। তিনি বাংলাদেশে স্টার্টআপে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা এবং এ খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এছাড়াও নিজেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, এর প্রভাব এবং সম্ভাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশি স্টার্টআপ-হিসাব (ফিনটেক) ও শেয়ারট্রিপ (ট্রাভেলটেক)। বিপরীতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন জাপানি কোম্পানি সাইফার কোর কোং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মতোইউকি অদাচি।
জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউজি অ্যান্ডো জাপানি কোম্পানির জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। অন্যদের মধ্যে ইউনিডো আইটিপিওর প্রধান ফুমিও আদাচি বক্তব্য রাখেন।







